প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে উত্তর কোরিয়া
আপলোড সময় :
০৭-০৩-২০২৬ ০৯:৪৬:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৩-২০২৬ ০৯:৪৬:২৯ অপরাহ্ন
প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে উত্তর কোরিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চালানো হামলার পর উত্তর কোরিয়া নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে দেশটি প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।
গত বুধবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন নতুন ৫ হাজার টনের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার চো হিওন ডেস্ট্রয়ার থেকে একটি ‘কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি।
সমুদ্র পরীক্ষার অংশ হিসেবে জাহাজটির শেকডাউন ক্রুজ সম্পন্ন হওয়ার পর কিম এটিকে ‘সমুদ্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নতুন প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেন।
কিম জং-উন বলেন, ‘পানির নিচ থেকে এবং ওপরে আঘাত হানার জন্য আমাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে… এসব সাফল্য আমাদের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক মৌলিক পরিবর্তন এনেছে, যা আমরা অর্ধশতাব্দী ধরে অর্জন করতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো শক্তি আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে তারাই আমাদের শত্রু।’
উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এমন সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পিয়ংইয়ং ও তেহরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরোধিতা এবং নিজস্ব পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করেই এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
লন্ডনের কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক র্যামন পারদো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে আরও যৌক্তিক বলে মনে করতে পারে।
তিনি বলেন, “এতে কিম জং-উন মনে করতে পারেন যে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে টিকে থাকার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।”
বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বল্পমেয়াদে পিয়ংইয়ং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ থেকে দূরে সরে গিয়ে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে, যাতে সম্ভাব্য মার্কিন চাপ মোকাবিলা করা যায়।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কারণে উত্তর কোরিয়া ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করবে না।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-ছুল বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিই বদলাবে না, বরং উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়াকে নিয়ে গঠিত যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোটের ঐক্যও আরও মজবুত করতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স